
শিমুল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে সেদিন আমি আমার সহকর্মী যোদ্ধাদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। একজন সেনা কর্মকর্তা হয়ে ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, দেবহাটা এলাকায় পাক সেনাদের বিরুদ্ধে কঠোর সম্মুখ যুদ্ধ করেছি। যুদ্ধকালীন সময়ে এর ঘটনাবলী আজও আমাকে কাঁদায়।
আমাদের সহকর্মী কুষ্টিয়ার ইলিয়াস হোসেন পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হলে তাকে শ্যামনগর থানার গোপালপুর বধ্যভূমি কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। সেদিন ছেলেহারা ইলিয়াসের বাবা খোঁজ করতে এসে ইলিয়াসের কবরের পাশেই কাঁদতে কাঁদতে মারা যায়।
আমরা আজ যে স্থানে বসে কথা বলছি এবং যে স্থানে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধন করেছি এখানে আমার অনেক স্মৃতি পায়ের চিহ্ন রয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পিরোজপুর, দুধলি, যমুনা নদী, কাকশিয়ালী নদী, কালিগঞ্জ ডাকবাংলা, পারুলিয়া, শ্যামনগর, গোপালপুর বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ করেছি।
পাকবাহিনীর ব্যাংকারে গ্রেনেড নিক্ষেপে, বোমা মেরে ব্রিজ ওড়ানো সহ পাক হানাদার মুক্ত করে এ অঞ্চলকে স্বাধীন করেছি। আমার বাড়ি বরিশাল তাই আমার দাবি কালিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের নিকট আমার মৃত্যুর পর আমার জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত কালীগঞ্জের মাটিতে সমাহিত করা হয়। আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আমি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এসিল্যান্ড মহোদয়কে অনুরোধ জানাচ্ছি কালিগঞ্জের স্মৃতি বিজড়িত মুক্তিযুদ্ধের সময় যমুনা নদী কাকশিয়ালী নদীসহ যে সমস্ত স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে সে স্থান গুলো যেন মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়।
শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথি হিসেবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ৯নাম্বার সেক্টর এর সাব-সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেনেন্ট (অবসরপ্রাপ্ত) মাহফুজ আলম বেগ এই কথাগুলো বলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোকনুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী বলেন, মুক্তিযোদ্ধ আর যমুনা নদী যেন একসূত্রে গাঁথা। অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পর থেকে নদী পথে ভারতে গিয়ে প্রাণ বাঁচান অনেক নিরস্ত্র বাঙালি। একাত্তরের জুন-জুলাইয়ে,এই নদীতে অপারেশন জ্যাকপট সহ সারাবিশ্বে নজর কারেন মুক্তিযোদ্ধারা। ৯ মাসের সেই লড়াইয়ে রক্তে লাল হয়েছে যমুনা গলঘেসিয়া, ইছামতি নদী। কর্ণফুলী থেকে মধুমতি, ব্রহ্মপুত্র থেকে ইছামতি, পদ্মা মেঘনা যমুনা সুরমার বুক,এই নদীর হানাদার বাহিনী এর সামনে দাঁড়িয়েছে বাধার প্রাচীর হয়ে। বিজয়ের ৫০ বছর পুর্তিতে যমুনা গলঘেসিয়া নদীকে মুক্তিযোদ্ধা নদী ঘোষণার দাবি করছি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কালিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, ডি আর এম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার, শিমুলিয়া কলেজের অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুমার বিশ্বাস, থানা আ’লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিব ফেরদৌস শিমুল, মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ প্রমূখ। উক্ত অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রধান অতিথি কে মেডেল সহ আওয়ামী লীগ শিক্ষক সমিতি সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
