
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত তিন বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস) ডিগ্রি প্রোগ্রামের ১৯টি বিষয়ের সিলেবাস যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক’ (BNQF) অনুসরণ করে ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ (OBE) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই নতুন কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে ‘তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রামের কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে আগামী সপ্তাহে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রতিবছর বের হওয়া পাঁচ থেকে ছয় লাখ গ্র্যাজুয়েটের শিক্ষার মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, আইন ও বিএডসহ বিভিন্ন বিষয়ের সিলেবাসের উন্নয়ন এবং কলেজগুলোর অধিভুক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে।
উপস্থিত শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা কামনা করে উপাচার্য আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক মডেল প্রশ্নপত্র তৈরি এবং আধুনিক সিলেবাস তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বৈষম্যহীন ও সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের তরুণরা প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করে বিশ্বমানের কর্মবাজারে প্রবেশে এগিয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, কারিকুলাম তৈরি, ভ্যালিডেশন এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ জটিল হলেও রূপান্তরকামী এই উদ্যোগ সফল করতে প্রশাসন নিরলস কাজ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরী, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম এবং কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস।
উল্লেখযোগ্য যে, এই সিলেবাস সংস্কার কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছেন।
