
প্রতিবেদনঃ মোঃ হোসেন গাজী।।
করোনা ভাইরাস পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবন মান। সমাজে নতুন করে বেঁচে থাকার বিভিন্ন উপায়সহ মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক পরিবর্তন করেছে করোনা ভাইরাস। যেমনিভাবে আমাদের মাঝে ভয় জাগিয়েছে তেমনিভাবে মানুষকে নতুনভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে। গত বছরের মার্চ মাসের ৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করতে দেখা দেয়। সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি প্রার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ ত্রাণ নিয়ে সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করে। কেউ কেউ ব্যানার নিয়ে শোডাউন করে ত্রাণ বিতরণ করেন, আবার কেউ কেউ নিরবে মানুষের দুয়ারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। কার আগে কে ত্রাণ দিবেন সেই প্রতিযোগিতাও লক্ষ্য করা গেছে। খবর দিয়ে দেখা যায়, কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণ পেয়েছেন। সেই সময় এমনটিও শোনা যায়, কেউ কেউ ত্রাণ পেয়ে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আশায়, কেউ নাম কুড়ানোর জন্যে, কেউ বা আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় ত্রাণ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। গত বছর জুড়ে যেমনি ত্রাণ বিতরণের তোড়জোড় শোনা গেছে, তেমনি ত্রাণ মেরে খাওয়ার রেকর্ডও করেছেন অনেকেই। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় সরকার লকডাউন উঠিয়ে নেয়ার পর মানুষের জীবনযাত্রা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে, সবকিছুই স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এ বছরের মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় আমাদের দেশেও করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ৭ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করে। প্রথম দফায় লকডাউন কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যায় সরকার। লকডাউন ও একই সাথে রমজান শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়ে সাধারণ জনগণ। গত বছরের মতো এবারের লকডাউনে সাধারণ মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে তেমন কাউকেই দাঁড়াতে দেখা যায়নি। সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে থাকার মতো উৎসাহ জোগাতেও কাউকে লক্ষ্য করা যায়নি। হঠৎ করেই উধাও হয়ে গেছে জনসেবা করতে আসা মানুষগুলো। বর্তমান ইরি বোরো মৌসুম চলছে, বাংলার কৃষকগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজা রেখে এই প্রখর রৌদে তাদের ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত। কিন্তু এবারে সেলফি তোলার জন্যেও কোনো নেতা-কর্মীকে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়াতে লক্ষ্য করা যায়নি। তবে দু-একটি স্থানে কেউ কেউ কৃষকের পাশে গিয়ে সেলফি উঠালেও তা ছিল গত বছরের তুলনায় অতি নগণ্য।
ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীদের মাঝে কেন সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এতো অনীহা তা জানার চেষ্টা করা হলে অনেকেই জানান, সামনেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন করোনার কারণে সকল নির্বাচন স্থগিত করেছেন। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীগণ অযথা টাকা নষ্ট করতে চাইছেন না। কারণ তারা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ফেলেই এ ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করবেন। এজন্যে কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেন। এছাড়াও সংসদ নির্বাচন, পৌর নির্বাচন দু-তিন বছরের মধ্যে হচ্ছে না। সেই কারণেই সম্ভাব্য প্রার্থীগণ এলাকায় আসছেন না। আমাদের দেশের রেওয়াজ অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়ে থাকে। কেউ কেউ তাদের অতিথি পাখি হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।
তবে অনেকেই মনে করেন, জনসেবা করার উদ্দেশ্য থাকলে সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কোনো কিছু পাওয়ার লোভে সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দেয়া কোনো মতেই ঠিক নয়।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জোনা যায়, কেউ কেউ নিজের নাম গোপন রেখে সাধারণ মানুষদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তবে তা বর্তমান সময়ে চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য। তারপরও তাদের এ সহযোগিতা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ সুশীল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীগণ এ করোনা মহামারী ও মাহে রমজানের বরকতময় দিনগুলোতে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল।
