
শিমুল হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:
আজ সকাল ১০ টায় কালিগঞ্জ উপজেলার কাঁকশিয়ালী নদীর তীরে শূন্য-কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়নের দাবীতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া, সভাপতি জাকিয়া রাজিয়া। এ সময় বক্তারা বলেন,
জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ নারীরা এই প্রতিবাদ জানায়। বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠন এর আয়োজনে এবং পার্টিসিপেটরি রিসার্স একশান নেটওয়ার্ক (প্রান) এর সহযোগীতায় তারা কার্বন উৎপাদনকারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ক্রস চিহ্ন দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক যে কোন অবকাঠামো, কারখানা, উৎপাদন, ব্যবসা বিপন্ননের বন্ধের দাবী জানান।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম এদেশে নানান জেলা জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে নানাভাবে নানান দূর্যোগের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চল সাইক্লোন, লবনাক্ততা, বন্যা, জলাবদ্ধতা, বেঁড়িবাঁধ ভাঙন সহ নানান ভয়াবহ দূর্যোগের মধ্যে দিয়ে বেঁচে আছে। ফলে একদিকে হারাচ্ছে ভিটেমাটি, সম্পদ। মানুষ হচ্ছে উদ্বস্তু অন্য দিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক, সহিংসতার সমূখীন হচ্ছে উপকূলবাসী, এখানে নারীরা আরো আছে সবথেকে বেশি ঝুঁকির মধ্যে।
জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে তাই কার্বন উৎপাদনের একটা বড় অংশ হচ্ছে কার্বনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং এর বানিজ্য। সবচেয়ে বেশি কার্বন উৎপাদক দেশগুলো তালিকায় রয়েছে ধনীদেশগুলি। বাংলাদেশের অবস্থান সেখানে বহু পরে থাকলেও বিভিন্ন পরিসংখ্যন বলে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ১৯ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী করে।
যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এনার্জি এবং বিদ্যুৎ খাত। অনবায়ণ যোগ্য উৎস থেকে ক্রমাগত কার্বন ডাই অক্সাইডের মত গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন বৃদ্ধি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক নিয়ামক। জীবাশ্ম জালানীর ব্যবহার, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেগা প্রকল্প কারনেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েও বাংলাদেশ কার্বন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে গন্য হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন সংকট মোকাবেলায় আগামী ১ থেকে ১২ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে, বিশ্ব জলবায়ু সম্লেলন কপ-২৬। এই কপ অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারন, আগামীতে করনীয় এবং দায়িত্ব বন্টন করা হবে। তাই এই প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানিকে সম্পূর্ণ বাতিল করে পুনব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রুপান্তরের মাধ্যমে একটি সবুজ পৃথিবীর দাবী জানান।
